
সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) তথা নগর ভবন নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলেও সেখানে সেবা নিতে এসে চরম হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বর্তমান প্রশাসকের নাকের ডগায় বসে দুর্নীতির এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তার সিএ (চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট) ফয়জুর রহমান।
অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসকের রুমে রাজত্ব চালানো এই কর্মকর্তা কোনো ফাইল বা আবেদন প্রশাসকের টেবিল পর্যন্ত পৌঁছাতে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেন। টাকা না দিলে নানারকম আইনি জটিলতা ও অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ফাইল আটকে রাখা হয়। মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আরিফুল হক চৌধুরী এবং আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর আমল পেরিয়ে বর্তমান প্রশাসকের আমলেও ফয়জুরের দাপট ও প্রভাব একটুও কমেনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফয়জুর রহমানের এই দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী সিসিকের বিতর্কিত এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তার সাথে গোপন আঁতাত করে অনিয়ম ও ঠিকাদারি ফাইল প্রশাসকের মাধ্যমে সুকৌশলে অনুমোদন করিয়ে দেন ফয়জুর, আর বিনিময়ে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের কমিশন। কেবল সেবাগ্রহীতা সাধারণ মানুষই নন, বদলি, পদোন্নতি ও দাপ্তরিক সুবিধার জন্য সিসিকের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি দক্ষিণ সুরমার এক ভুক্তভোগী জানান, জরুরি কাজের আবেদন নিয়ে প্রশাসকের দপ্তরে গেলে ফয়জুর তাকে নানা অজুহাতে ঘুরিয়ে বিদায় করে দেন। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে চাহিদা মতো টাকা দেওয়ার পরপরই মুহূর্তের মধ্যে ফাইলটি পাস হয়ে যায়।
সাধারণ কর্মচারী থেকে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া ফয়জুর রহমান নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় গড়ে তুলেছেন বহুতল বিলাসবহুল অট্টালিকা। এছাড়া শেয়ার বাজারে বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানিতে রয়েছে তার বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ। একজন সাধারণ কর্মচারী হয়ে কীভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ অঢেল সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে খোদ নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।
নগরবাসীর দাবি, প্রশাসকের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা তাকে ব্যবহার করে ফয়জুর সিন্ডিকেট পুরো সিসিককে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। সিসিকের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে ও নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্তপূর্বক এই চিহ্নিত দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিসিক প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

Reporter Name 









