
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের একটি গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি কোনো বিলাসিতা নয়—এটাই মসজিদ,মাদরাসা, স্কুলে যাওয়ার পথ, এটাই অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার একমাত্র ভরসা, এটাই কৃষকের ফসল ঘরে তোলার পথ। বছরের পর বছর ধরে এই পথ দিয়েই চলেছে মানুষের জীবন। অথচ হঠাৎ করেই আওয়ামীলীগ ডেবিল আব্দুল মুকিত কয়েসগংরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। শুরু হয় দুটি গ্রামের মধ্যে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, সরকারি নালিশা জমির ওপর দিয়ে চলে যাওয়া এই কাঁচা রাস্তাটিকে ককয়েসগংরা নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দাবি করে বন্ধ করার চেষ্টা চালায়। এতে চরম বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ। স্কুলগামী শিশু, বয়স্ক নারী-পুরুষ, অন্তঃসত্ত্বা মা—সবার চলাচল কার্যত হুমকির মুখে পড়ে।
এরপর দুটি গ্রামের মানুষ রাস্তার বিষয়টি আদালতের নজরে নিয়ে আসেন । ফেঞ্চুগঞ্জ আমলি আদালতের ০৪/২০২৫ নম্বর মামলায় উভয় পক্ষের বক্তব্য, ভূমি সংক্রান্ত নথি, বিআরএস ও সিএস রেকর্ড এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফেঞ্চুগঞ্জের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।
আইনি বিশ্লেষণে আদালত স্পষ্ট করেন—বিতর্কিত জমিটি কোনো ব্যক্তির নয়; এটি সরকারের খতিয়ানভুক্ত নালিশা (খাস) জমি। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য একটি কাঁচা রাস্তা বিদ্যমান রয়েছে, যা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি খাস বা নালিশা জমিতে জনসাধারণের ব্যবহার—বিশেষ করে রাস্তা বা চলাচলের পথ—একতরফাভাবে বন্ধ করা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নের আশঙ্কা থাকলে আদালত তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
এই মামলায় আদালত সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করেছেন।
আদালত আদেশে—ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করেন, উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থানে শান্তিপূর্ণ থাকার নির্দেশ দেন এবং মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।
রায়ের পর স্থানীয়দের মুখে স্বস্তির ছাপ। একজন গ্রামবাসী বলেন, “এই রাস্তাটা বন্ধ হলে আমাদের জীবন থেমে যেত। আদালতের রায় আমাদের বাঁচিয়েছে।”
এই রায় শুধু একটি গ্রামের গল্প নয়। এটি সারাদেশে সরকারি জমি দখল, প্রভাব খাটিয়ে জনস্বার্থ উপেক্ষা এবং নীরব ভূমি দখলের প্রবণতার বিরুদ্ধে একটি আইনি বার্তা। সরকারি জমি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, আর জনচলাচলের পথ বন্ধ করার অধিকার কারও নেই।

রেডিও সিলেট 











