ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিলেটে নারী ও শিশুকে ছুরির মুখে ছিনতাইয়ের অভিযোগ সিলেটে নারী ও শিশুকে ছুরির মুখে ছিনতাইয়ের অভিযোগ চাঁদনীঘাটে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী র‌্যাব ৯ এর অভিযানে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের মাদক মামলায় ০৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ‘লোকমান আহমেদ’ গ্রেফতার। সিসিকে নিয়োগ জালিয়াতি: সতর্কবার্তা জারি করলেন প্রশাসক সিলেট থেকে শুরু হবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস : প্রধানমন্ত্রী সিলেটে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের অভিযানে ১০ কিশোরকে আটক প্রতীকের সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় নির্বাচন : প্রতিমন্ত্রী সিলেটে র‍্যাবের অভিযানে বিদেশি রিভলবার উদ্ধার সিলেট-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইলিয়াস পত্নী লুনার বিজয়
নোটিশ :
সারাদেশে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা আজই যোগাযোগ করুন 01600504572

সরকারী জমি নিজের দাবী করে ১৭ বছর যাবৎ রাস্তা বন্ধ জনদূর্ভোগে ১৫ হাজার মানুষ

  • রেডিও সিলেট
  • আপডেট সময় ০৭:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের একটি গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি কোনো বিলাসিতা নয়—এটাই মসজিদ,মাদরাসা, স্কুলে যাওয়ার পথ, এটাই অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার একমাত্র ভরসা, এটাই কৃষকের ফসল ঘরে তোলার পথ। বছরের পর বছর ধরে এই পথ দিয়েই চলেছে মানুষের জীবন। অথচ হঠাৎ করেই আওয়ামীলীগ ডেবিল আব্দুল মুকিত কয়েসগংরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। শুরু হয় দুটি গ্রামের মধ্যে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সরকারি নালিশা জমির ওপর দিয়ে চলে যাওয়া এই কাঁচা রাস্তাটিকে ককয়েসগংরা নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দাবি করে বন্ধ করার চেষ্টা চালায়। এতে চরম বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ। স্কুলগামী শিশু, বয়স্ক নারী-পুরুষ, অন্তঃসত্ত্বা মা—সবার চলাচল কার্যত হুমকির মুখে পড়ে।

এরপর দুটি গ্রামের মানুষ রাস্তার বিষয়টি আদালতের নজরে নিয়ে আসেন । ফেঞ্চুগঞ্জ আমলি আদালতের ০৪/২০২৫ নম্বর মামলায় উভয় পক্ষের বক্তব্য, ভূমি সংক্রান্ত নথি, বিআরএস ও সিএস রেকর্ড এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফেঞ্চুগঞ্জের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।
আইনি বিশ্লেষণে আদালত স্পষ্ট করেন—বিতর্কিত জমিটি কোনো ব্যক্তির নয়; এটি সরকারের খতিয়ানভুক্ত নালিশা (খাস) জমি। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য একটি কাঁচা রাস্তা বিদ্যমান রয়েছে, যা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি খাস বা নালিশা জমিতে জনসাধারণের ব্যবহার—বিশেষ করে রাস্তা বা চলাচলের পথ—একতরফাভাবে বন্ধ করা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নের আশঙ্কা থাকলে আদালত তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
এই মামলায় আদালত সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করেছেন।

আদালত আদেশে—ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করেন, উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থানে শান্তিপূর্ণ থাকার নির্দেশ দেন এবং মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।

রায়ের পর স্থানীয়দের মুখে স্বস্তির ছাপ। একজন গ্রামবাসী বলেন, “এই রাস্তাটা বন্ধ হলে আমাদের জীবন থেমে যেত। আদালতের রায় আমাদের বাঁচিয়েছে।”

এই রায় শুধু একটি গ্রামের গল্প নয়। এটি সারাদেশে সরকারি জমি দখল, প্রভাব খাটিয়ে জনস্বার্থ উপেক্ষা এবং নীরব ভূমি দখলের প্রবণতার বিরুদ্ধে একটি আইনি বার্তা। সরকারি জমি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, আর জনচলাচলের পথ বন্ধ করার অধিকার কারও নেই।

Facebook Comments Box
ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিলেটে নারী ও শিশুকে ছুরির মুখে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

সরকারী জমি নিজের দাবী করে ১৭ বছর যাবৎ রাস্তা বন্ধ জনদূর্ভোগে ১৫ হাজার মানুষ

আপডেট সময় ০৭:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের একটি গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি কোনো বিলাসিতা নয়—এটাই মসজিদ,মাদরাসা, স্কুলে যাওয়ার পথ, এটাই অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার একমাত্র ভরসা, এটাই কৃষকের ফসল ঘরে তোলার পথ। বছরের পর বছর ধরে এই পথ দিয়েই চলেছে মানুষের জীবন। অথচ হঠাৎ করেই আওয়ামীলীগ ডেবিল আব্দুল মুকিত কয়েসগংরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। শুরু হয় দুটি গ্রামের মধ্যে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সরকারি নালিশা জমির ওপর দিয়ে চলে যাওয়া এই কাঁচা রাস্তাটিকে ককয়েসগংরা নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দাবি করে বন্ধ করার চেষ্টা চালায়। এতে চরম বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ। স্কুলগামী শিশু, বয়স্ক নারী-পুরুষ, অন্তঃসত্ত্বা মা—সবার চলাচল কার্যত হুমকির মুখে পড়ে।

এরপর দুটি গ্রামের মানুষ রাস্তার বিষয়টি আদালতের নজরে নিয়ে আসেন । ফেঞ্চুগঞ্জ আমলি আদালতের ০৪/২০২৫ নম্বর মামলায় উভয় পক্ষের বক্তব্য, ভূমি সংক্রান্ত নথি, বিআরএস ও সিএস রেকর্ড এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফেঞ্চুগঞ্জের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।
আইনি বিশ্লেষণে আদালত স্পষ্ট করেন—বিতর্কিত জমিটি কোনো ব্যক্তির নয়; এটি সরকারের খতিয়ানভুক্ত নালিশা (খাস) জমি। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য একটি কাঁচা রাস্তা বিদ্যমান রয়েছে, যা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি খাস বা নালিশা জমিতে জনসাধারণের ব্যবহার—বিশেষ করে রাস্তা বা চলাচলের পথ—একতরফাভাবে বন্ধ করা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নের আশঙ্কা থাকলে আদালত তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
এই মামলায় আদালত সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করেছেন।

আদালত আদেশে—ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করেন, উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থানে শান্তিপূর্ণ থাকার নির্দেশ দেন এবং মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।

রায়ের পর স্থানীয়দের মুখে স্বস্তির ছাপ। একজন গ্রামবাসী বলেন, “এই রাস্তাটা বন্ধ হলে আমাদের জীবন থেমে যেত। আদালতের রায় আমাদের বাঁচিয়েছে।”

এই রায় শুধু একটি গ্রামের গল্প নয়। এটি সারাদেশে সরকারি জমি দখল, প্রভাব খাটিয়ে জনস্বার্থ উপেক্ষা এবং নীরব ভূমি দখলের প্রবণতার বিরুদ্ধে একটি আইনি বার্তা। সরকারি জমি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, আর জনচলাচলের পথ বন্ধ করার অধিকার কারও নেই।

Facebook Comments Box