
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রকাশ্য দিবালোকে আওয়ামী লীগের নামধারী সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টা নাগাদ আওয়ামী ডেবিল কুতুব আলী, সালেহ আহমদ, ইলাল মিয়া ও আব্দুল মানিকের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক লোক সংঘবদ্ধভাবে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলায় অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের দোকানপাট ভাঙচুর করে এবং নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা ও প্রায় ৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। মুহূর্তেই উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আহতরা প্রাণ বাঁচাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে আহতরা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে ঘটনার পর থেকে হামলাকারীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আহত ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নিজেদের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, চিকিৎসা শেষে তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবি—এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, দখল ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হামলাকারীরা ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর
অবৈধ সমাবেশ ও দাঙ্গা ধারা ১৪৩/১৪৭/১৪৮,
মারধর ও গুরুতর জখম ধারা ৩২৩/৩২৫/৩২৬,
সম্পত্তি ধ্বংস ধারা ৪২৭, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ ডাকাতি
ধারা ৩৯৫/৩৯৭ এবং প্রাণনাশের হুমকি ধারা ৫০৬ অপরাধ করেছেন।
সংঘবদ্ধভাবে ২শ’ লোকের হামলা হওয়ায় গুরুতর অপরাধ (Cognizable & Non-bailable) হিসেবে মামলা গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থাকায় নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি

রেডিও সিলেট 











